পাবনা প্রতিনিধি
পাবনার ঈশ্বরদীতে চাপা ইসলাম নামে এক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সাহাপুরে ইউনিয়নের আওতাপাড়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের জাহিদুল সরদারের বাড়ি থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
মৃত ভিক্ষুকের বাবার নাম জানা যায়নি। তিনি পাবনা জেলার চাটমোহরের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ছামেলা খাতুন নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত নারী মানিক সরদারের পুত্রবধূ ও জাহিদুল সরদারের স্ত্রী। ছামেলা খাতুনকে পুলিশ আটক করলেও বাড়ির অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত যুবক ভ্যানে করে ঈশ্বরদী উপজেলার গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করতেন। চাপা প্রায়ই সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া পশ্চিম পাড়া গ্রামের ছামেলা খাতুনের শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াত করতেন। তার সঙ্গে নিরঞ্জন নামে চাটমোহর এলাকার আরো এক মানসিক ভারসাম্যহীন ভিক্ষুক থাকতেন।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, হয়তো টাকা পয়সার কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় চাপাকে পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে ছামেলা খাতুনসহ তার পরিবার। গভীর রাতে লাশটি গুম করার পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেলে স্থানীয় কুলি ছাইদার হোসেন ও ওই ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার রহিদুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মানিক সরদারের বাড়িতে গেলে তাদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। পরে তারা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীর রক্তে ভেজা ছিল। আটককৃত ছামেলা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। তবে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply